চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
মহামারি করোনার কারণে গত বছর সারাবিশ্বের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নেমে এসেছিল স্থবিরতা। সেই স্থবিরতার আঁচ লেগেছিল চট্টগ্রাম বন্দরেও। ফলে এক বছরের ব্যবধানে কনটেইনার পরিবহনে বিশ্বের সেরা ১০০ বন্দরের তালিকায় ৯ ধাপ পিছিয়ে ৬৭তম অবস্থানে নেমে এসেছে দেশের প্রধান এ সমুদ্রবন্দর। ২০১৯ সালে যার অবস্থান ছিল ৫৮তম।
বন্দর সূত্র জানায়, সমুদ্রপথে বাংলাদেশের কনটেইনার পরিবহনের ৯৮ শতাংশ কাজ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়। এছাড়া এ বন্দর দিয়ে যত পণ্য পরিবহন হয়, তার ২৭ শতাংশই আনা-নেয়া হয় কনটেইনারে। বাকি ৭৩ শতাংশ পরিবহনে ব্যবহৃত হয় কনটেইনারবিহীন সাধারণ জাহাজ।
সোমবার ২০২০ সালের কনটেইনার পরিবহনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সেরা ১০০ বন্দরের তালিকা প্রকাশ করে লন্ডনভিত্তিক শিপিং বিষয়ক প্রাচীন সংবাদমাধ্যম লয়েডস লিস্ট। এতে প্রথম অবস্থানে রয়েছে চীনের সাংহাই বন্দর, দ্বিতীয় সিঙ্গাপুর বন্দর এবং সর্বশেষ ১০০তম অবস্থানে রয়েছে চীনের জিনঝু বন্দর।
প্রথম অবস্থানে থাকা চীনের সাংহাই বন্দর ২০২০ সালে হ্যান্ডলিং করেছিল চার কোটি ৩৫ লাখ তিন হাজার ৪০০ টিইইউ’স কনটেইনার। ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ছিল চার কোটি ৩৩ লাখ তিন হাজার টিইইউ’স কনটেইনার। যা বেড়েছে শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ।
দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সিঙ্গাপুর বন্দর ২০২০ সালে হ্যান্ডলিং করেছিল তিন কোটি ৬৮ লাখ ৭০ হাজার ৯০০ টিইইউ’স কনটেইনার। ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ছিল তিন কোটি ৭১ লাখ ৯৫ হাজার ৬৩৬ টিইইউ’স কনটেইনার। যা বেড়েছে শূন্য দশমিক নয় শতাংশ।
তৃতীয় অবস্থানে থাকা চীনের নিংবো ঝাউশন বন্দর ২০২০ সালে হ্যান্ডলিং করেছিল দুই কোটি ৮৭ লাখ ২০ হাজার টিইইউ’স কনটেইনার। ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ছিল দুই কোটি ৭৫ লাখ ৩০ হাজার টিইইউ’স কনটেইনার। যা বেড়েছে চার দশমিক তিন শতাংশ।
চতুর্থ অবস্থানে থাকা চীনের শেনজেন বন্দর ২০২০ সালে হ্যান্ডলিং করেছিল দুই কোটি ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টিইইউ’স কনটেইনার। ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ছিল দুই কোটি ৫৭ লাখ ৭০ হাজার টিইইউ’স কনটেইনার। যা বেড়েছে তিন শতাংশ।
পঞ্চম অবস্থানে থাকা চীনের গোয়াংজু বন্দর ২০২০ সালে হ্যান্ডলিং করেছিল দুই কোটি ৩৫ লাখ পাঁচ হাজার ৩০০ টিইইউ’স কনটেইনার। ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ছিল দুই কোটি ৩২ লাখ ৩৬ হাজার ২০০ টিইইউ’স কনটেইনার। যা বেড়েছে এক দশমিক দুই শতাংশ।
৬৭ তম অবস্থানে থাকা চট্টগ্রাম বন্দর ২০২০ সালে হ্যান্ডলিং করেছিল ২৮ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টিইইউ’স কনটেইনার। ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩০ লাখ ৮৮ হাজার ১৮৭ টিইইউ’স কনটেইনার। যা কমেছে আট শতাংশ।
১০০তম অবস্থানে থাকা চীনের জিনঝু বন্দর ২০২০ সালে হ্যান্ডলিং করেছিল ১৬ লাখ ৪৩ হাজার টিইইউ’স কনটেইনার। ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৮ লাখ ৭৯ হাজার টিইইউ’স কনটেইনার। যা কমেছে ১২ দশমিক ছয় শতাংশ।
তালিকায় দেখা গেছে, সেরা ১০০ বন্দরের প্রথম ১০টির মধ্যে সাতটিই চীনের। এর মধ্যে সাংহাই, নিংবো ঝাউশন, শেনজেন ও গোয়াংজু ছাড়াও ষষ্ঠ অবস্থানে দেশটির কুইংদাও, অষ্টম অবস্থানে তিয়ানজিন ও নবম অবস্থানে হংকং বন্দর রয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে কুইংদাও বন্দরে চার দশমিক আট শতাংশ, তিয়ানজিন বন্দরে ছয় দশমিক তিন শতাংশ ও হংকং বন্দরে দুই দশমিক দুই শতাংশ কনটেইনার হ্যান্ডলিং বেড়েছে।
লয়েডস প্রতি বছরই এ তালিকা তৈরি করে। এতে ২০১০-২০২০ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর যথাক্রমে ৮৮, ৮৯, ৯০, ৮৬, ৮৭, ৭৬, ৭১, ৭০, ৬৪, ৫৮ ও ৬৭ তম স্থান অর্জন করে। লয়েডসের প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যকে আঘাত করায় বছরটিতে কনটেইনার পরিবহনে পিছিয়েছে দেশের প্রধান এ সমুদ্র বন্দর।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ওই বছরে সেরা এই ১০০ বন্দর দিয়ে একক কনটেইনার পরিবহন হয়েছে ৬৩ কোটি ২০ লাখ। যা আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক সাত শতাংশ কম।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, লয়েডস লিস্টে ৯ ধাপ পিছিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। তবে এটি বন্দরের সক্ষমতার অভাব কিংবা গাফিলতি নয়। ২০২০ সালে করোনার শুরুর দিকে সারাবিশ্ব স্থবির হয়ে পড়েছিল। বিশ্বের বড় বড় বন্দর যখন দিশেহারা হয়ে পড়েছিল, তখনো ২৪ ঘণ্টা ৭ দিন সচল ছিল চট্টগ্রাম বন্দর। আশাকরি সামনে সেরাদের তালিকায় আরো এগিয়ে আসবে চট্টগ্রাম বন্দর।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, করোনার ধাক্কায় গত বছর ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমেছিল। যার কারণে কনটেইনারে পণ্য আমদানি-রফতানি কমেছে। বৈশ্বিক তালিকায় ৯ ধাপ পেছানোর এটিই প্রধান কারণ হতে পারে।
Leave a Reply